Skip to content

থিওরিটিক্যাল কথাবার্তা বলে জিনিসটা খুব বড় করে ব্যাখ্যা দেয়া যায়, তবে প্যাচাপ্যাচির মধ্যে না যেয়ে সহজে যদি ব্যাখ্যা করি তবে এক কথায় – প্লাগিন হচ্ছে ওয়ার্ডপ্রেসের বিভিন্ন ফাংশন। এখন ব্যাখ্যা করি…

ধরেন আপনি ওয়ার্ডপ্রেসে খুব সুন্দর একটা সাইট বানিয়ে ফেলেছেন। ওয়েবসাইটে সব আছে কিন্ত কন্টাক্ট ফর্ম নেই। এখন কন্টাক্ট ফর্ম তো আপনার ক্রিয়েট করতে হবে। আপনি এইচটিএমএল, সিএসএস, পিএইচপি সহ আরও বিভিন্ন জিনিস ইউজ করে আপনার ওয়েবসাইটের জন্য কন্টাক্ট ফর্ম তৈরি করলেন। দিন শেষে দেখা গেল আপনার পেজের ওই কন্টাক্ট ফর্মটা বানাতে বেশ কিছু সময় গেছে, বেশ কিছু ঘাটাঘাটি করতে হইছে।

অথচ আপনি খুব খুব খুব সহজে ওয়ার্ডপ্রেসের প্লাগিন দিয়েই কাজটা সেরে ফেলতে পারতেন। কন্টাক্ট ফর্ম সেভেন, ডব্লিউপি ফর্মস সহ অসংখ্য কন্টাক্ট ফর্ম প্লাগিন আছে যেগুলো ইন্সটল করা কয়েক সেকেন্ডের ব্যাপার মাত্র। ইন্সটল করলে আপনার কাছে একটা সেটিংস অপশন আসবে, সেই অপশনের কিছু ম্যান্ডাটরি ফিল্ড পূরণ করে দিবেন (যেমন কেউ কন্টাক্ট ফর্ম পূরণ করলে মেইল কার কাছে যাবে, সাকসেস ম্যাসেজটার কালার কী হবে ইত্যাদি ইত্যাদি)। ব্যাস আপনার ওয়েবসাইটে সুন্দর একটা কন্টাক্ট ফর্ম শো করবে।

এভাবে ওয়ার্ডপ্রেসের কোর ফাংশনগুলা চেঞ্জ না করে নতুন নতুন ফাংশন জুড়ে দেয়ার জন্যই ওয়ার্ডপ্রেসের প্লাগিন ব্যবহার করা হয়। প্রায় সব কাজের জন্যই প্লাগিন আছে। কিছু প্লাগিন থাকে কন্টাক্ট ফর্ম বানাতে, কিছু প্লাগিন থাকে সাইটের সিকিউরিটির জন্য, কিছু প্লাগিন থাকে নিতান্ত সৌন্দর্য বর্ধনের জন্য। মোট কথা প্রায় সব কাজের প্লাগিনই পাবেন। আবার অকাজের অনেক প্লাগিনও পাওয়া যায়। যেমন ২০১২ র দিকে ওয়ার্ডপ্রেস ডিরেক্টরিতে একটা প্লাগিন ছিল, ওই প্লাগিন ইন্সটল করলেই পুরো ওয়েবসাইট সাদা হয়ে যেত। কী কারণে যেন প্লাগিনটা আমার বেশ পছন্দ হয়ে গিয়েছিল। প্লাগিন অথর আর আমি মিলে প্লাগিনের বেশ ঘষামাজাও করেছিলাম। এত বছর পর মনে হয় কত গাধাই না ছিলাম তখন।

এখন কথা হচ্ছে প্লাগিন কি ফ্রি নাকি পেইড?

দুই ধরণেরই পাওয়া যায়। তবে আপনার সাইট যদি ব্যাসিক হয় বা আপনার জন্য হয় তাহলে ফ্রি প্লাগিন ব্যবহার করাই ভালো। ওয়ার্ডপ্রেসের প্লাগিন ডিরেক্টরিতে আপনি হাজার হাজার প্লাগিন খুঁজে পাবেন যেগুলো দিয়ে আপনার পারপাজ সার্ভ হবে। আবার আপনার ক্লায়েন্ট যদি স্পেশাল কোন ফাংশন তার ওয়েবসাইটে চায়, অথবা আপনি যদি মনে করেন আপনার ওয়েবসাইটে কোন স্পেশাল ফাংশন অ্যাড করবেন সেক্ষেত্রে আপনি পেইড প্লাগিনও ব্যবহার করতে পারেন। আবার কিছু কিছু প্লাগিন আছে যারা ফ্রি ভার্সন দেয় কিন্ত স্পেশাল সব ফিচার লক করে রাখে, বলে দেয় আপগ্রেড করলে স্পেশাল ফিচারগুলা ইউজ করতে পারবা।

যেমন আমার এক ক্লায়েন্টের কন্টাক্ট ফর্ম দরকার ছিল, তাকে আমি একটা প্লাগিন সেট করে দিলাম। পরে সেই ক্লায়েন্ট বলতেছে যে – আমি যেই মেইলগুলা পাঠাচ্ছি সেটা আদৌ ট্র্যাক করার কোন অপশন কী আছে যাতে আমি বুঝতে পারি যে কে কে মেইল পড়ে আর কে পড়ে না? পরে একটু খুঁজে দেখলাম ওই প্লাগিন আপগ্রেড করলেই ওই অপশনটা পাওয়া যাবে। আপগ্রেড করার সাথে সাথে অপশন পেয়েও গেলাম। তবে আবারো বলছি, আপনার সাইট যদি ব্যাসিক ওয়েবসাইট হয় তবে পেইড প্লাগিন ব্যবহার করার কোন দরকারই নাই। ফ্রি প্লাগিন দিয়েই ৯৫% কাজ চালিয়ে নেয়া যায়।

গুগলে অনেক সময় সার্চ দিয়ে দেখবেন পেইড প্লাগিন গুলোই কেউ কেউ ফ্রিতে দিচ্ছে। ভুলেও লোভে সেই সব ইউজ করবেন না। লোভে পাপ, পাপে সাইট হ্যাকড। পেইড প্লাগিন ফ্রিতে ছাড়ার উদ্দেশ্যই কিন্ত আপনার সাইটের বারোটা বাজানো। সুতরাং ওই পথে পা চালাবেন না।
7 views