Skip to content

যদি শাব্দিক ভাবে ব্যাখ্যা করতে বলেন তাহলে SSL দিয়ে বুঝায় Secure Sockets Layer. যেহেতু এই ওয়েবসাইট কোন পড়ালেখার ওয়েবসাইট না, তাই শাব্দিক অর্থ বুঝানোর কোন দরকার নাই। চলেন প্র্যাকটিক্যাল ভাবে বুঝি।

ধরেন আপনার একটা ওয়েবসাইট। সেই ওয়েবসাইটে আপনি কোন কিছু বিক্রি করবেন। ধরেন মধু বিক্রি করবেন। এখন আপনি আপনার ওয়েবসাইটে লিখে রাখলেন – “এখানে মধু বিক্রি হয়, মধু কেনার সময় আপনাকে আপনার ডেবিট/ক্রেডিট কার্ড দিয়ে পে করতে হবে”। আপনার সেই বিজ্ঞাপন দেখে মধুখালীর মধু মিয়া আপনার ওয়েবসাইটে আধা কেজি মধুর অর্ডার দিল। এখন তার ক্রেডিট কার্ডে যখন সে বিল পে করতে যাবে তখন আসলে ঘটনাটা কী ঘটবে? আপনার ওয়েবসাইটে থাকা কিছু বক্সে সে তার মহা মূল্যবান ক্রেডিট কার্ডের ইনফরমেশন অ্যাড করবে। সেটা করার পর পেমেন্ট গেটওয়ে তার কার্ড থেকে টাকা কেটে নিয়ে আপনার অ্যাকাউন্টে জমা করে দিবে, তাই না? কিন্ত আপনি কী জানেন? এই যে ফুল প্রসেসে আরও কয়টা মাধ্যম জড়িত হয়? চলেন হিসেব করি।

মাধ্যম ১ – যেই মুহুর্তে মধু মিয়া তার ব্রাউজার খুললেন সেই মুহুর্ত থেকেই ব্রাউজার তাঁর সব কিছু ট্র্যাক করা শুরু করল।
মাধ্যম ২ – অর্ডার করার সাথে সাথে পেমেন্ট গেটওয়ে তাকে তার ক্রেডিট কার্ড ইনফরমেশন দেয়ার জন্য যে বক্স দেখাচ্ছে সেই মুহুর্তে যুক্ত হলো পেমেন্ট গেটওয়ে।
মাধ্যম ৩ – আপনার ওয়েবসাইটে অর্ডার করার সাথে সাথে সব আইপি ইনফরমেশন, কুকিজ লগ করা শুরু করল আপনার হোস্টিং কোম্পানি।
মাধ্যম ৪ – আপনি যদি অটোমেশনের কোন টুল ইউজ করেন তবে তারাও এই খেলায় শামিল হলো।
মাধ্যম ৫ – অর্ডার কনফারমেশনের পর মধু মিয়াকে আপনি যে অটোমেটিক কনফারমেশন টেক্সট পাঠাচ্ছেন, সেই টেক্সট পাঠানোর প্রতিষ্ঠান খেলায় এসে যোগ দিল।
মাধ্যম ৬ – আপনি যে আপনার অর্ডার পেয়েছেন সেটা চেক করতে তো নিশ্চয়ই আপনার সাইট চেক করতে হবে, সাইট চেক করতে তো ইন্টারনেট লাগবে, তখন আসলো আপনার লোকাল আইএসপি।
মাধ্যম ৭ – মধু মিয়া যখন অর্ডার দিয়েছে তখন সেও তো ইন্টারনেট ব্যবহার করেই অর্ডার দিয়েছে, তার আইএসপিও তাই এখানে জড়িত।

এগুলো হচ্ছে আমরা দেখতে পাই এমন মাধ্যম, এছাড়া লুকানো কত কিছুই তো আছে। এই যে এত এত মাধ্যম মাঝে দিয়ে অ্যাড হলো মধু মিয়া আর আপনার মধ্যে, ভাবেন একবার কোন একটা মাধ্যমে যদি কোন ভাবে মধু মিয়ার ক্রেডিট কার্ড ইনফরমেশন বেহাত হয় তাহলে কিন্ত মধু মিয়ার ক্রেডিট কার্ডে যত টাকা আছে তা বেহাত হওয়া কয়েক সেকেন্ডের ব্যাপার মাত্র।

এই বেহাত যাতে না হয় এজন্যই ব্যবহার করা হয় SSL. SSL একটা টানেলের মত ক্রিয়েট করে ফেলে, যে টানেল দিয়ে সিকিউরলি সব ইনফরমেশন পাস হয়ে যায়। উপরের যে মাধ্যমগুলো বললাম, সব মাধ্যমই দেখে এনক্রিপটেড ইনফরমেশন পাস হচ্ছে, কিন্ত ডিক্রিপ্ট কি না থাকায় মাধ্যমগুলো কোন ভাবেই জানতে পারে না কী ইনফরমেশন আসলে পাস হচ্ছে। ফলাফল হচ্ছে SSL ইউজ করার ফলে মধু মিয়ার ক্রেডিট কার্ডের সব ইনফরমেশন সিকিউর থাকে।

উইকিপিডিয়ার হিসাব মতে পৃথিবীর প্রায় ৩০ ভাগ ওয়েবসাইটেই এখন SSL ব্যবহার করা হয়। ২০১৮ সালের পর খোলা ৯০ ভাগ ওয়েবসাইটে SSL ব্যবহার করা হয়। ওয়েবসাইটে SSL চালু থাকলে ব্রাউজার অ্যাড্রেসে https:// অপশন দেখতে পারবেন, না থাকলে আপনাকে ব্রাউজার বারবার সাবধান করতে থাকবে।

SSL

অতি অবশ্যই কখনো ভুলেও SSL ইন্সটল করা নেই এমন কোন ওয়েবসাইটে আপনার ব্যাংক রিলেটেড কোন ইনফরমেশন দিবেন না। তাতে ইনফরমেশন বেহাত হওয়ার সম্ভাবনা ৯৯.৯৯%। SSL ইন্সটল করা নেই এমন কোন ওয়েবসাইট থেকে কোন প্রোগ্রাম ডাউনলোড বা ইন্সটল করাও খুবই রিস্কি।
18 views